এশিয়া কাপ ২০২৩: এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্কোয়াড

এশিয়া কাপ ২০২৩: এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্কোয়াড নিয়ে থাকছে বিস্তারিত। ইতিমধ্যেই এশিয়া কাপ ক্রিকেটকে ঘিরে পুরোদমে ভারতীয় দলের প্রস্তুতি চলছে। এশিয়া কাপের পর ভারতীয় ক্রিকেট দল খেলবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে। আর তাই এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ এবং অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পূর্বে এবার নিজেদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারত।

২১ আগস্ট তারিখে বিসিসিআই কতৃক প্রকাশ করা হয় ভারতের এই এশিয়া কাপ স্কোয়াড।

এশিয়া কাপ ২০২৩ আসরের অন্যতম ফেভারিট দল ভারত। এশিয়া কাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশিবার শিরোপা জিতেছে তারা। তাদের পরবর্তী অবস্থানে অবশ্য শ্রীলঙ্কার নাম রয়েছে। তবে নিসন্দেহে ফেভারিট লিস্টে ভারতের নাম আগে থাকবে। তবে এশিয়া কাপের আসন্ন মৌসুমে হতে পারে ভিন্ন কিছু একটা।

এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া ছয়টি দলের মধ্যে আছে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্থান ও নেপাল। প্রত্যেকটি দল তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে। আর তাই ভিন্ন কিছু দেখতে পারে এবারের এশিয়া কাপ ক্রিকেট ভক্তরা।

ভারতের এশিয়া কাপ ২০২৩ পূর্নাঙ্গ স্কোয়াড

এশিয়া কাপ ২০২৩ এর ভারতের স্কোয়াড: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, কেএল রাহুল, ঈশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়া (সহ অধিনায়ক), রবীন্দ্র জাদেজা, শার্দুল ঠাকুর, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামী, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণ।

স্ট্যান্ড বাই খেলোয়াড়: সঞ্জু স্যামসন

স্কোয়াড বিশ্লেষণ | এশিয়া কাপ ২০২৩

বিসিসিআই কতৃক ভারতের ১৭ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। রোহিত শর্মা প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতীয় ক্রিকেট দলকে। স্কোয়াডে বিভিন্ন চমকের দেখা মিলেছে। তবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল শ্রেয়াস আইয়ার এবং কেএল রাহুলকে নিয়ে। সব বিতর্ক দূরে রেখে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তারা এবং খেলবেন এশিয়া কাপ ২০২৩ এ। অন্যদিকে ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে আছেন সঞ্জু স্যামসন। প্রয়োজনে ডাক পেতে পারেন ফলে।

🔹ব্যাটিং বিভাগ: রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, কেএল রাহুল, ঈশান কিষাণ।

🔹বোলিং বিভাগ: কুলদীপ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামী, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণ।

🔹অলরাউন্ডার: হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, শার্দুল ঠাকুর, অক্ষর প্যাটেল।

🔹উইকেট-রক্ষক: কেএল রাহুল, ঈশান কিষাণ

🔹অতিরিক্ত খেলোয়াড়: সঞ্জু স্যামসন

মূল খেলোয়াড় এবং অধিনায়কত্ব

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে এশিয়া কাপের জন্য। যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়ের গুরুত্ব রয়েছে। তবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ খেলোয়াড়দের তালিকা দেওয়া হলো।

রোহিত শর্মা
বিরাট কোহলি
হার্দিক পান্ডিয়া
রবীন্দ্র জাদেজা
জসপ্রিত বুমরাহ

অধিনায়কত্ব:

ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের অন্যতম ওপেনার রোহিত শর্মা।

রোহিত শর্মার অধিনায়কত্ব নিয়ে ভারতের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নেই কোনো বিতর্ক।

প্রত্যেকেই তার অধিনায়কত্বের উপর ভরসা করে থাকেন।

এছাড়াও ভারতের ঘোষণা করা স্কোয়াডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের তালিকায় রোহিত শর্মা একজন অন্যতম খেলোয়াড়।

এবারের এশিয়া কাপ শিরোপা জেতার লড়াইতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

আগের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে ভারতের পারফরম্যান্স

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন পরিসংখ্যানগত দিক থেকে এশিয়া কাপে ভারতের সমতুল্য শিরোপা কেউ জিতেনি। আর তাই এশিয়ার মধ্যে রাজত্ব বেশি ভারতের।

ইতিমধ্যেই এসিসি তাদের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট ১৫তম বারের মত সমাপ্ত করেছিল ২০২২ সালে।

পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সাতটি এশিয়া কাপ শিরোপা জয় করেছে ভারত।

১৯৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী মৌসুমেই শ্রীলংকাকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে নেয় ভারত।

এরপর থেকেই টানা সকল এশিয়া কাপে অংশ নেয় তারা। নিচে তাদের এশিয়া কাপে টুর্নামেন্ট জেতার পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো।

একনজরে ভারতের এশিয়া কাপ জেতার ইতিহাস

১৯৮৪ এশিয়া কাপ ফাইনাল

১৮৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী মৌসুম ছিল। সেবার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। যেখানে এশিয়ার প্রথম শিরোপা ঘরে তুলে নেয় ভারত দল।

১৯৮৮ এশিয়া কাপ ফাইনাল

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হয় সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কার। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেবার দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করে ভারত।

১৯৯০ এশিয়া কাপ ফাইনাল

১৯৯০ সালে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দল ছিল ভারত। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় এশিয়া কাপের শিরোপা জয় করে ভারত।

১৯৯৫ এশিয়া কাপ ফাইনাল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট। যেখানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে টানা তিনবার এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ের রেকর্ড করে ভারত।

২০১০ এশিয়া কাপ ফাইনাল

দীর্ঘ ১৫ বছরের অবসান ঘটিয়ে ২০১০ সালে আবারও এশিয়া কাপের শিরোপা জেতার স্বাদ পায় ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল শ্রীলঙ্কাকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জয় করে ভারত।

২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনাল

২০১৬ সালে এশিয়া কাপ আয়োজক দেশ ছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে উঠেছিল তারা। তবে ভারতের কাছে হারতে হয় তাদের, একইসাথে ভারতের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের উদযাপন হয় বাংলাদেশে।

২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনাল

সবশেষ ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত।

তাদের প্রতিপক্ষ ছিল গত আসরের প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ। এটি ছিল তাদের সপ্তম শিরোপা।

এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট স্কোয়াড কীভাবে বেছে নেওয়া হয়?

প্রতিটি দেশ যোগ্যতা, শারীরিক ফিটনেস, বিগত পারফরম্যান্স, সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় একজন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে নির্বাচন করে থাকে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষেত্রে বা তাদের নির্বাচক মন্ডলীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি এর ব্যতিক্রম কিছু নয়।

ভারতীয় ক্রিকেট দলে কিছু অবস্থান ছিল যেগুলো পূর্বে থেকেই লক করা।

যেমন; রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়া আরো অনেকেই। ভারতের স্কোয়াডে তাদের উপস্থিতি থাকা নিয়ে কোনো সংশয় ছিলনা।

তবে লোকেশ রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার, সঞ্জু স্যামসন, সূর্যোকুমার যাদবদের অবস্থান নিয়ে ছিল সংশয়।

তাদের অবস্থান সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় রেখে নির্বাচন করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিলক ভার্মার কথা বলা যায়।

সম্প্রতি উইন্ডিজ সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় সরাসরি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার নাম।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে স্কোয়াড নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচকমন্ডলী ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে নজর দিয়েছেন। এছাড়াও দলে রয়েছে অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *